somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দ্য ওয়ে অভ লাভ
স্রষ্টার প্র্র্র্রতি সৃষ্টির এবং সৃষ্টির প্র্র্র্রতি স্রষ্টার ভালোবাসা ই হল একমাত্র চিরন্তন সত্য ।।

প্রিয় নীলনদের পাড়ে একদিন

২৪ শে মে, ২০১৩ রাত ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কায়রো আসার দুই সপ্তাহ পরের কথা । হঠাৎ একদিন মনে হল, আরে নীলনদ তো এখনো দেখা হয়নি ! অথচ বাসা থেকে মাত্র ২-৩ কিলোমিটার দূর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে আমার অন্যতম প্রিয় নদ ।দেখার আগেই যার প্রেমে আমি পড়েছি।
আসলে কায়রো আসার পর ভিসা নেয়া, ভার্সিটিতে এডমিশন নেয়া ও অন্যান্য ব্যস্ততার ভিড়ে সময় হয়ে উঠেনি ।

নীলনদকে ঘিরে রয়েছে কতশত রূপকথা,গল্প-কবিতা-উপন্যাস, হাসি-কান্না আর ৭ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। মনে পরতেই কেমন যেন রোমাঞ্চে ভরে উঠে মন ।
তো বিকালে বেড়িয়ে পড়ি নীল দর্শনে ।আমার সঙ্গী বললেন: চলেন তাহরীর স্কয়ার হয়ে যাই । ভাবলাম,মন্দ কী ? এক সঙ্গে দুটোই দেখা হবে ।
এক পাউন্ডের মেট্রো রেলে চড়ে বসলাম (এক পাউন্ডের মানে হল,কায়রোর যেখানেই যান-কাছে কিংবা দূরে-টিকিট মূল্য একই)।
নামলাম আনওয়ার সাদাত স্টেশনে ।এটা গ্রাউন্ডে , শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ।উপরে উঠতেই ঐতিহাসিক তাহরীর স্কয়ার, বাংলায় অর্থ করলে হয় 'স্বাধীনতা চত্তর' ।
তখন সবে মাত্র তীব্র আন্দোলনের মুখে ত্রিশ বৎসরের একনায়কতন্ত্রের পতনের পর মিশরের ইতিহাসের প্রথম গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে।
দেয়ালে দেয়ালে অংকিত লেখা যেন দূর্বার গণআন্দোলনের সাক্ষ্য দিচ্ছে ।
আরেকদিন নাহয় তাহরীর নিয়ে লেখব ।
আরব লীগ ইউনিভার্সিটি হাতের ডানে রেখে কিছুদূর এগোতেই দেখা মিলল কাংক্ষিত ভালবাসার । যদিও শহুরে মোড়কে তার দোর্দন্ড প্রতাপ কিছুটা ম্রিয়মান ।
তীরে দাঁড়াতেই মন-প্রাণ জুড়ানো বাতাস এসে প্রাণ জুড়িয়ে দিল ।
কায়রোর রাতের নীল অপরূপ সাজে সজ্জিত হয় । বাহারী রংয়ের আলোয় আলোকিত নৌকায় বসে বিখ্যাত ব্যালে ড্যান্সের আসর ।চলে ভোর অবধি ।

এবার নীলের ভৌগলিক অবস্থান আলোচনা করা যাক :
বিশ্বের দীর্ঘতম নদের নাম নীল নদ। যার দৈর্ঘ্য ৬ হাজার ৬৫০ কিলোমিটার। নীল নদের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে প্রাচীন মিসরের সভ্যতা। প্রতি বছর নীল নদের বন্যায় পলি পড়ে অতিমাত্রায় উর্বর হয়ে ওঠা উভয় তীরে প্রচুর ফসল হতো। এ ছাড়া খালের সাহায্যে পানি নিয়ে নীল নদের দুই তীরের দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতেও চাষাবাদ করা হতো।আফ্রিকা মহাদেশের এই নীল নদ বিশ্বের দীর্ঘতম নদীরও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর দুটি উপ-নদ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে শ্বেত নীল নদ ও নীলাভ নীল নদ। এর মধ্যে শ্বেত নীল নদ দীর্ঘতর। শ্বেত নীল নদ আফ্রিকার মধ্যভাগের হ্রদ অঞ্চল হতে উৎপন্ন হয়েছে। এর সর্বদক্ষিণের উৎস হলো দক্ষিণ রুয়ান্ডাতে। এটি এখান থেকে উত্তরদিকে তাঞ্জানিয়া, লেক ভিক্টোরিয়া, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নীলাভ নীল (ব্লু নাইল) নদ ইথিওপিয়ার তানা হ্রদ হতে উৎপন্ন হয়ে পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে সুদানে প্রবেশ করেছে। দুটি উপনদই পরে সুদানের রাজধানী খার্তুমের কাছে মিলিত হয়েছে। নীল নদের উত্তরাংশ সুদানে শুরু হয়ে মিসরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মিসরীয় সভ্যতা প্রাচীনকাল থেকেই নীলের ওপর নির্ভরশীল। মিসরের জনসংখ্যার অধিকাংশ এবং বেশির ভাগ শহরের অবস্থান নীল নদের উপত্যকায়। প্রাচীন মিসরের অনেক সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থানও এখানে। কঙ্গো, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, ইথিওপিয়া, মিসর জুড়ে বিস্তৃত নীল নদ ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিশেছে। পৃথিবীর সব নদ-নদী উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রবাহিত হলেও নীল নদ দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়।

মহাকালের সাক্ষী আমার প্রিয় নীলের জলধারায় সবাইকে আমন্ত্রন ।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×