somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্প: টুনটুনি টুনটুনি

০২ রা মে, ২০১৩ রাত ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকালে দাদীর ডাকে চোখ কচলাতে কচলাতে ঘুম থেকে ওঠে টুনটুনি। তিন বছর বয়সের এই ছোট্র জীবনে বেশ কয়েকদিনই টুনিকে এমন সকালে উঠতে হয়েছে। টুনি জানে কেন তার দাদী তাকে এই সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলেছে। তাই চোখ কচলাতে কচলাতে দাদীর হাত থেকে খাবারের বাটিটা নিয়ে হাঁটতে শুরু করে টুনি। টুনি এটা কিছুতেই বোঝেনা যে কেন তার মা মাঝে মাঝে না খেয়েই গার্মেন্টসে চলে যায়। একটু দেরি করে গেলেই কি খুব বেশি ক্ষতি? মায়ের কাছে এই প্রশ্নটা বেশ কয়েকবার করতে চেয়েও ভুলে যাবার কারণে প্রশ্নটার উত্তর পাওয়া হয়নি এখনো। আজ ঠিক ঠিক জানতে চাইবে মায়ের কাছে। এসব ভাবতে ভাবতেই বড় রাস্তায় এসে দাঁড়ায় টুনি। ট্রাফিক পুলিশের আঙ্গুলে টোকা দেয়। টুনি জানে এই লোকটাই তাকে রাস্তা পার করে দেবে। ছোট্ট টুনির হাত ধরে রাস্তা পার করে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এভাবে কয়েকবার বাবার হাত ধরেও পার হয়েছিল টুনি। বাবা ঢাকায় থাকেন। সাভারে বড় গার্মেন্টসে চাকরী করেন। বছরে দুই ঈদের একটিতে আসেন। তাই গত তিন বছরে টুনি তার বাবাকে দেখেছে তিনবার। এরমধ্যে একবারের কথা টুনির বেশি মনে আছে, আরেকবারের কথা অল্প মনে আছে আর প্রথমবারের কথা কিছুই মনে নেই। ভাবতে ভাবতেই মায়ের কাছে পৌছে যায় টুনি। ইয়া বড় গার্মেন্টস। টুনি সোজা ভিতরে চলে যায়। সবাই টুনিকে চেনে। মায়ের কাছে গিয়ে খাবারের বাটিটা দেয় টুনি। মা টুনির কপালে একটা চুমু দেয়। টুনি এখানে মার সাথে বেশি কথা বলেনা। একদিন কথা বলেছিল বলে তার মাকে মাষ্টার মতন একজন লোক ঝাড়ি দিয়েছিল। তাই টুনি এখানে বেশিক্ষন দেড়িও করেনা। বের হয়ে হাঁটতে থাকে বাড়ির পথে। বাড়ি পৌছে টুনি দেখে তার দাদী ছোটাছুটি করছে। ঢাকায় কোন একটা গার্মেন্টস ভেঙ্গে পড়েছে। দাদী তার বাবার বন্ধু নুরু চাচার মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে। টুনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা দাদী কান্না করছে কেন। তবে মনে হচ্ছে কিছু একটা ঝামেলা হয়েছে।

টুনি ঘটনাটা বুঝতে পারল ঠিক পরেরদিন। তার বাবাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। টুনি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেনা যে এত বড় একজন মানুষ হারিয়ে যায় কিভাবে? টুনির মা গতকালকেই ঢাকা চলে গিয়েছিল। মাঝে মধ্যে দাদীর সাথে তার মায়ের কথা হচ্ছে নুরু চাচার মোবাইলে। দাদীর বিষয়টা টুনি ঠিক বুঝতে পারছেনা, এই বুড়িটা এত কান্না করছে ক্যান? এভাবে তিন দিন পার হয়ে গেল , টুনির বাবা নিখোঁজ। টুনির কাছে যদিও তার বাবা সবসময়ের জন্যই নিখোঁজ তবুও এবারের নিখোঁজ হওয়াটা যে অন্য যে কোন বারের চেয়ে ভিন্ন তা টুনি ঠিকই বুঝতে পারছে।

আজ সকালে টুনির মা বাড়িতে এসেছে। মায়ের বিভৎস চেহারা দেখে কথা বলার মত সাহস হলোনা টুনির। ভয়ে ভয়ে মায়ের কাছে গেল টুনি। মা টুনিকে জাপটে ধরে ডুকরে কাঁদতে লাগল। টুনি মাকে বাবার কথা জিজ্ঞেস করবে কিনা বুঝে উঠতে পারলনা।
তবুও সাহস করে বলল, "মা বাজান আইলোনা?"
টুনির মা ব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করল।
টুনির হাতে দিয়ে বলল, "তোর বাজান তোর জন্য ২০ হাজার ট্যাকা পাঠাইছে আর কইছে কোনদিন তোরে দ্যাখতে আইবেনা।" বাবার না আসাটা যদিও টুনির জন্য বিশেষ কোন বিষয় না তবুও টুনি তার মাকে বলল, "বাজান কি ঈদের সমও আইবোনা?" নিরুত্তর মা টুনির দিকে তাকায় কাঁদতে লাগল। মাকে এভাবে কখনো কাঁদতে দেখেনি টুনি।

আজ শ্রমিক দিবস। টুনির মা গতকাল একটা লাল জামা কিনে এনেছে টুনির জন্য। লাল জামা পেয়ে খুব খুশিতে আছে টুনি। মা একটা বড় প্যাকেট দিয়েছে হাতে। প্যাকেটের মধ্যে কিছু খোড়মা আছে। টুনি সেটা নিয়ে মসজিদের দিকে যাচ্ছে। মসজিদে হুজুর আজ মিলাদ পড়াবে। রাস্তায় নুরু চাচার সাথে দেখা টুনির।
নুরু চাচা টুনিকে জিজ্ঞেস করে, "মা কই যাও?"
টুনি হাসিমুখে নুরু চাচাকে বলে, "কাইল বাবায় ট্যাকা পাঠাইছিল মসজিদে মিলাদ দ্যাওনের লাইগা, তাই মসজিদে যাই খুড়মা দিতে।"

টুনির কথায় নুরু চাচার চোখ বেয়ে জল নামতে থাকে। এ জলের অর্থ বোঝেনা টুনি, এগিয়ে যায় মসজিদের দিকে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পূর্বপুরুষের অপরাধের দায় বর্তমান জেনারেশনকে দেওয়া অন্যায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪৩

"দোস্ত, ওরা আমাকে এক পাকিস্তানীর সাথে বন্ধুত্ব করতে বলছে যে কিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উলাটা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে রুম থেকে বের হয়ে এসেছি।" রাতেরবেলা দেখা হলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ ও আত্মহত্যা (তথ্য এআই দ্বারা যাচাইকৃত)

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:১৯

গত ১ বছরে বাংলাদেশে আত্মহত্যার সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ জনের মতো। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৪০–৪১ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান (২০২৫–২০২৬):
**মোট আত্মহত্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যত স্বপ্ন।

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭

পাঁচ বছর আগে এই গানটা লিখেছিলাম। আজ গানে 'পরিবর্তন' করলাম।
ঝগড়া করতে চাওয়া সব মানুষদের উৎসর্গ করছি। ;)



ভবিষ্যত সম্পূর্ণ একটা স্বপ্ন
যেখানে তুমি আমি বাধাহীন
আজকের দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনে কিছু করা বলতে আসলে "প্রচুরস" টাকা কামানো বলে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৩ রা জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৯

স্কুলে যখন ছিলাম, তখন "প্রচুরস" শব্দটা আমরাই তৈরী করি। প্রচুর দিয়েও যখন যথেষ্ট বোঝানো যায় না, তখন "প্রচুরস" ব্যবহার করা হয়, প্রচুরের প্লুরাল আর কি।



আমার আব্বার বইয়ের দোকান ছিলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পতনের অপেক্ষায়...

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৩ রা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০


(ছবিটার পুওর কোয়ালিটির জন্য দুঃখিত। নিজের তোলা এর চেয়ে ভালো কোন ছবি পেলে পরে এটা রিপ্লেস করে দিব)

আমরা এখন...
পাকাফল হয়ে হয়ে ঝুলে আছি,
ভূমিপানে নতমুখে,
পতনের অপেক্ষায়....... ...বাকিটুকু পড়ুন

×