একটা প্রানের জন্ম হওয়া দেখলাম যে আজ... সেই ছোট্ট একটা কোষ থেকে... কি করে হয়!
আমার অস্তিত্বের শুরুর আটদিনের মাথায় ছিলাম কয়েক মিলিমিটারের বেলানো রুটির মত, পাতলা, চ্যাপ্টা কতগুলো পর্দার যোগফল। হঠাৎই কি হয়, সেই পাতলা রুটির মত পর্দাগুলো ভিতর দিকে ভাঁজ হয়ে আসে। আস্তে আস্তে দুই পাশ মিলে মিশে এক হয়ে যায়। এক এক ভাজের ফাঁকে এক এক যাদু। কোনটা গোল হয়ে তৈরি করে মুখ থেকে শরীরের অন্য প্রান্ত পর্যন্ত লম্বা পাইপ। কোনটা ছোট্ট মেশিনটা চালু করিয়ে দেয়। যেটা ধুকুপুকু শব্দ করে আলোড়ন তুলে যায়।
কোনটা তৈরি করে মস্তিষ্ক কিংবা মরুরজ্জু। ছোট্ট একটা ভুল, আর জন্ম হয় খুলি খোলা অবস্থায়... ওই যে, কালো মার্বেলের মত কি যেন উঁকি দেয়া শুরু করে। যেন আটার গোলার মধ্যে কালো জাম পুঁতে দিয়েছে কেউ। সেগুলোই চোখ হয়ে যায় এক সময়। এই ছোট্ট দুটি অঙ্গ, কয়েক মিলিমিটার বড় ছোট হওয়া নিয়ে কত্ত কিছু... সেই অঙ্গের গঠন প্রক্রিয়া এত বাড়াবাড়ি রকমের সরল... 'রিস্কি' এবং ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। সামান্য একটা এনজাইমে সামান্য একটু যদি উলোট পালোট হতো, তাহলে চোখগুলো কখনও খোলাও যেত না। নাকের মাঝখানটা আর ঠোঁটগুলো মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত। ঠোঁট এত সুন্দর হয় কি করে, এতো কেবলে রুটি বেলতে গিয়ে হঠাৎ ভাঁজ হয়ে গেলে যেমনটা হয়, তেমনই প্রক্রিয়ায় হওয়া।
দুই মাসের মাথায় হাতের তালুতে নেওয়া যাবে, ঠিক সেই মাপের পরিপূর্ণ মানুষ।
একটা প্রানের ভিতর আরেকটা প্রান। নয় মাস ধরে বড় হওয়া, একটু একটু করে। একই মায়ের শরীরে ওই সন্তানের দশ মিলিমিটার রক্ত ঢুকিয়ে দেয়া হোক না, সমস্ত রক্ত আক্রমন করে মেরে ফেলবে অনুপ্রবেশকারীকে। কি আশ্চর্য, এই প্রানটাই এতদিন ছিল একেবারে মায়ের শরীরের ভিতর। সেখানকার তরলে কয়েক ঢোক সারাদিনে ভুলে গিলে ফেলে, দেয়ালে শক্তি পরীক্ষা করে, মায়ের শরীর থেকে পুষ্টি নিয়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে কমন মিরাকেল। প্রত্যেকটা মানুষ এক একটা মিরাকেলের জীবন্ত সাক্ষী। অথচ, দু:খজনক, সবচেয়ে বেশি কম জানা, ভুলে থাকা, অবহেলায় দূরে ঠেলা মিরাকেল।