যদিও ইসলামাবাদ তাদের বাহিনীকে সাধারণ বাঙ্গালীদের উপর চাপ কমানোর আদেশ দিয়েছে, তারপরও প্রতিদিন গড়ে তিরিশ হাজার শরনার্থী বিভিন্ন পথে ভারতে প্রবেশ করছে। তাদের কাছে জানা যায় যে, পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের বাড়ীঘর, হত্যা করা হচ্ছে অগুনতি মানুষকে নির্বিবাদে। বিশেষ বিশেষ খ্যাতনামা লোকদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যারা আজ অবধি নিখোজ। সৈন্যদের বর্বরতার আরেকটি প্রমান হচ্ছে, ঢাকা ডিংগী (লেখা হয়েছে ডিংগী, আমার ধারনা টঙ্গী হবে) ক্যান্টনমেন্টে 563 জন বাঙ্গালী নারীদের আটকে রাখা। যুদ্বের প্রথম দিন থেকেই তারা সেখানে বন্দী। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকা থেকে ধরে আনা হয়েছে তাদের। এদেরকে ধর্ষন করা হয়েছে ও সবাই তিন থেকে পাঁচ মাসের অন্তসত্বা। এদের গর্ভাপাত করানোও এখন আর সম্ভব নয়। এই অন্তসত্বা নারীদের অনেককে এই অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
কারো পইে বলা সম্ভব নয়, কত মানুষ এই গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। করাচীর একটি সুত্র, যার ইয়াহিয়া খানের মিলিটারী জান্তার সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, জনিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে এক মিলিয়নের (10 লক্ষ) মতো হবে। মুক্তিবাহিনীর অবস্থান করা এলাকার আশেপাশের গ্রামগুলোতে পাকিস্তান সৈন্যদের হত্যাজজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা এখন প্রতিদিনেরই রূটিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০