somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধিনতা যুদ্ধের মাধ্যমে শুধুমাত্র শাসকগোষ্টির পরিবর্তন হইছে, আমরা এখনো পরাধীন !

০১ লা ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানি না কেমন হবে, কিন্তু অনেকদিন ধরেই কিছু কথা মাথা থেকে আঙ্গুলের ডগায় এসে খোঁচাখুঁচি করছে। কোন পরিপ্রেক্ষিতে আজ তাদের মুক্তি দিব ভাবলাম...!

ঠিক সময়টা প্রায় শতক বছর পুরনো, তারপর অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে একটা গোষ্টি তার মাত্রিভাষায় কথা বলার অধিকার অন্যের দ্বারা খর্‌ব হবে হবে অবস্থায় উদ্ধার পেয়ে গেলো। খুব সহজে কিন্তু না ! অসংখ্য মা সন্তানহারা হলেন, পিত্রিহারা হলো অনেক সন্তান। বিনিময়ে পেলেন "মাতৃভাষা বাংলা।"

তার লেজ ধরেই একসময় সেই ভাষাপ্রেমিকরা অনূভব করলো যে ভাষা যখন তাদের ভূমিটাও তাদের হওআ দরকার ! এই স্বাদটাও কিন্তু সহজে তৈরী হয়নাই, জ্বালা-নিপীড়ন সয়ে সয়ে ঠিক সেষ পর্‌যায়ে এসেই তাদের এই ইচ্ছার উদ্রেক হয়েছে।

হ্যাঁ অবশেষে তাও তারা পেয়ে গেলো। এখন "স্বাধিন বাংলা"র কাঠ-খড় পোড়ানোর কথায় আসি ! স্বাধিন বাংলা পাওয়ার লোভে সন্তান তার বৃদ্ধ "মা"কে ঘরে রেখে যুদ্ধে চলে গেছে যার ভরণ-পোষন দেয়ার কেউই ছিলোনা। সেই মায়ের অপেক্ষা হয়তো শেষ স্বাঃশ ছাড়া পরযন্ত ছিলো ! এভাবেই সবে 'বংশপ্রদীপ'এর শলতেতে আগুন জ্বেলে দেয়া পিতাও চলে গেছিলেন দেশ স্বাধিন করতে। আর সেই 'বংশপ্রদীপ' যখন প্রস্ফুটিত হলো তখন তার জন্মভূমির নাম 'গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ' যার ভিত্তি গড়তে তার পিতার অনুপুস্থিতি তাকে সইতে হচ্ছে।

তো আপনাদের স্বাধিন (!) দেশে স্বাগতম। আসেন সবাই স্বাধিনতা যুদ্ধে যে যেই পরিমান সম্পদ হারাইছেন তার বিনিময় নিয়ে যান ! কারন দেশটা আসলে স্বাধিনের বা* ও হয়নাই। এখন আপনার প্রশ্ন করা খুব স্বাভাবিক যেঃ
-তাহলে এইযে যুদ্ধু হলো
-ত্রিশ লক্ষ প্রাণ ঝরলো
-লাখো মা-বোন সম্ভ্রম হারালো
-বসতি হারালো
এসবের মানে কী ???
আসলে কি, এইসব ত্যাগের মাধ্যমে শুধুমাত্র শাসকগোষ্টির পরিবর্‌তন হইছে আর কিচ্চু না !

আমার এই ভাবনার পিছনের কারনঃ

* বিষয়টার প্রমান পাওয়ার জন্য সদ্য স্বাধিন হওয়া দেশটার বেশিদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়নি ! ১৯৭৫ সালেই খলনায়কদের মুখোশ উন্মোচনের শুরু হয়। একে একে সবাই বিদায় নিলেন এই বাংলার অভিশাপ নিয়ে। মুক্তি পায়নি কোন বেহায়া !

* এইতো সেদিন দেশের প্রধানমন্ত্রির খুব হাস্যজ্জোল মুখেই 'আম জনতা'র কাছে জানতে চাইলেন "সব টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দিলে কেমন হয় ?" কথাটা তার পিতার ১৯৭৫ সালের কাজের সিমিলার মনে হচ্ছে ! আমার ভাবাটা হয়তো সৈরাচারির কাতার থেকে অনেক দূরে !

* বিরোধি দলের মনপুতো না হওয়া পরিস্থিতিকে বাগে আনার জন্য কিছু আবাল টাইপের দেশপ্রেমিক (!) গরুগুলারে রাস্তায় নামাইয়া দিছে। আর ছাগলগুলা বিবেকের মাথা খেয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপরে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে (এই কুত্তামির রাজনীতি করেই তো তাদের পেট চলে তাই দেশটাকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বল্লাম). এটা কিন্তু শুধু এই বিরোধি দলের সময়ের কথা না সেই শুরু থেকেই এভাবে চলে আসছে !

*আর আমি এই স্বাধিন (!) বাংলার একজন নাগরিক হিসেবে কোন একটা কথা বলার প্রয়জন অনূভব করলেও মুখ বুজে থাকতে হয়, এখন তাতেও বাধা আছে ! আস্টে-পিস্টে শত প্রতিবন্ধকতায় যখন আবদ্ধ তখন কি করে বলি "এই বাংলা স্বাধিন" ???

তাই খুব সহজেই বলা যায়, এই বাংলা কখনো স্বাধিন হয়নি বরং সাধারণ মানুষের রক্তে হলি খেলে বারংবার শাসকগোষ্টির পরিবর্‌তন হয়ে আসছে। আর এখানের ছোট্ট শিশুটিও শোষিত !!!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৫৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে” (দিনলিপি, ছবিব্লগ)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫


রোদের মাঝে একাকী দাঁড়িয়ে....
ঢাকা
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বেলা ১২৩৩

"সূয্যি মামা জাগার আগে উঠবো আমি জেগে" -- নিজ শিশুর মুখে একথা শুনে মানব শিশুর মায়েরা সাধারণতঃ কপট রাগত স্বরে এমন প্রতিক্রিয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান নিজে কি পেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে — রাশিয়াকে ড্রোন দিয়ে ইরান আসলে কী পেল? ইরানের Shahed-136 ড্রোন ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি... ...বাকিটুকু পড়ুন

"মেলা সুন্দর হতো আমাদের শৈশবে, যখন বই ছিল স্বপ্নের প্রতিশব্দ" ~ বইমেলা ২০২৬ উপলক্ষ্যে বাংলা ট্রিবিউনকে দেয়া আমার সাক্ষাৎকার

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৮



প্রশ্ন: মেলায় আপনার নতুন কী বই প্রকাশিত হচ্ছে?

সাজিদ উল হক আবিরঃ গত বছরখানেক ধরে দুটো বইয়ের কাজ করছিলাম। একটা আমার দ্বিতীয় উপন্যাস, সরীসৃপতন্ত্র; দ্বিতীয়টি, মিলান কুণ্ডেরার উপন্যাস দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল্লাদ খামেনি বাঙ্গুদের কাছে হিরো

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০৪ ঠা মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১২



বাঙ্গুদের কাছে খামেনি হিরো কারণ সে ইউএসের বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিল। কিন্তু বাঙ্গুরা কখনোই জানবেনা এই খামেনির ইরান ২০০৬ সালে তাদের এয়ারস্পেস আমেরিকার জন্য খুলে দেয় যাতে সাদ্দামের বাহিনীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×