
ডেসটিনি বন্ধ করে দেয়ার সংবাদ আপনারা হয়ত ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। এ নিয়ে ব্লগে বহু মতামত, বহু প্রতারনার অভিজ্ঞতা অনেকেই লিখেছেন। সবাই এ খবরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন । ইতিমধ্যে ডেসটিনিও একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সংসদীয় কমিটির সাথে একমত পোষন করেছে। তারাও তাদের প্রতারনার বিষয়টা বুঝতে পেরেছে।
কিন্তু সবাই একটি বিষয়কে এড়িয়ে গেছে। ডেসটিনি তো বন্ধ হবে, কিন্তু যেসব গ্রাহকের টাকা ডেসটিনিতে আছে তারা কিভাবে সে টাকা ফেরত পাবে? এ নিয়ে তো কেউ কোন কথা বলছে না।
তারা কি প্রতারিত হবে?
গ্রাহকরা প্রতারিত হওয়া মানে হায় হায় ডেসটিনির উপর লেভেলের কর্মকর্তাদের লাভবান হওয়া। দেশে ফটকা ব্যবসার একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হওয়া।বাংলাদেশে ইতিপুর্বে দুটি বড় কোম্পানী ও বহু ছোট ছোট হায় হায় কোম্পানী/এনজিও সহজ-সরল ও লোভী গ্রাহকের টাকা মেরে পালিয়েছে। বড় দুইটি কোম্পানী হল – আইটিসিএল ও যুবক।আইটিসিএল কোম্পানী গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য একটি কমিটি করে। তারপরও সাবেক মন্ত্রী লুতফর রহমান আজাদআইটিসিএলর সম্পত্তি কম মুল্যে কিনে লাভবান হয়। গ্রাহকরা তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পেয়েছে কিনা জানা নেই।যুবকের ক্ষেত্রে সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। সেই প্রশাসক গ্রাহকদের টাকা দিতে পেরেছিল কি না তাও আমরা জানি না।দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন ব্যক্তি ও মধ্যস্থতাকারীরাই লাভবান হয়- গ্রাহকরা বঞ্চিত ও প্রতারিতই থেকে যায়।
ডেসটিনির ক্ষেত্রে এখনো সুযোগ আছে প্রশাসক নিয়োগ করার।গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য ডেসটিনির উপর লেভেলের কর্মকর্তাদের পালিয়ে যাওয়ার আগেই সরকারকে তড়িত ব্যবস্থা নিতে হবে। এসুযোগে মধ্যস্থতাকারী কেউ যেন লাভবান হয়ে গ্রাহকের স্বার্থ ধুলিস্যাত না হয় তা দেখতে হবে।
তাই “প্রশাসক” হতে হবে------
১। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি
২।সংসদীয় কমিটি থেকে একজন
৩।দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে সহকারী পরিচালক পদের একজন
৪।প্রতারিত গ্রাহকদের মধ্য থেকে দেশের সাত বিভাগের সাতজন।
আপনারা কি বলেন?
আর ভবিষ্যতে কোন কোম্পানি বা এনজিও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিত কোন গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করলে যেন কঠোর শাস্তি পেতে হয়- সেজন্য কঠোর আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১০ দুপুর ১:৪৫