বাংলা ব্লগের অন্যতম রহস্যময় চরিত্র ফিউশন ফাইভ নিকের আড়ালে কে তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। এ নিয়ে পোস্টের সংখ্যাও নেহায়েত কম না। তাঁকে নিয়ে আমার নিজের আগ্রহ ছিল; ছিল বলছি কেন, এখনো আছে। অবশ্য এটাকে আগ্রহ না বলে মুগ্ধতাও বলা যেতে পারে। ভদ্রলোক (আসলে ভদ্রলোক না, আমাদের মতোই তরুণ, বড়জোড় যুবক) নানা মাত্রায় প্রতিভাবান। গ্রাফিক্সের কাজ ভালো পারেন, রস-হিউমারও আছে মনের মধ্যে- বেশ ভালো পরিমাণেই। সাম্প্রতিক রস+আলো যারা পড়ছেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন তাঁর রসময় মনের কথা!

ফিউশন ফাইভ হিসেবে একসময় বেশ কয়েকজনকে সন্দেহ করতাম। তাদের মধ্যে আছেন পল্লব মোহাইমেন, সিমু নাসের, কৌশিক, আশীফ এন্তাজ রবি, আরো কয়েকজনকে (সন্দেহজনক কারণে তাদের নাম বলছি না...)। আস্তে আস্তে সন্দেহের জাল গুটাতে গুটাতে মোটামুটি তিনটি নামের ব্যাপারে নিঃসন্দেহ হয়েছিলাম কয়েক দিন আগে। এই নিঃসন্দেহ হওয়ার পেছনে ফিউশন ফাইভ কখন ইন্টারনেটে বসেন, আইপি অ্যাড্রেস, পরিচিত কারো সাথে হিউমারের ধরন মিলে কিনা ইত্যাদি নানা ইকুয়েশন কাজ করেছে। সব মিলিয়ে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম।
খুঁজেপেতে দেখি তাঁর মোবাইল নম্বরটা আছে আমার কাছেই। ফোন লাগালাম। ব্যাটা আমার আগের পরিচিত। বলা ভালো আমাদের পড়ালেখার সেশন একই। কোনো ভনিতা না করে সরাসরি ফিউশন ফাইভ হিসেবেই তাঁর সাথে কথা বললাম। পাক্কা চল্লিশ মিনিট। নানা বিষয়ে। বিষয়ের কী আর শেষ আছে! কখনো লোকালটক, কখনো মুক্তিযুদ্ধের ই-বুক, কখনো সিমু নাসের, কখনো রস+আরো, কখনো হিমু, কখনো নেভারেস্ট, কখনো আশীফ এন্তাজ রবি, কখনো সামু, কখনো মুসা, কখনো বা খোদ ফিউশন ফাইভ ইত্যাদি নানা বিষয়ে আলোচনা। আলোচনা শেষে যখন জিজ্ঞাসা করলাম, বস, তোমার সাথে যে এই আলোচনা করলাম, এগুলো দিয়া কি একটা লেখা দিমু সামুতে?
সে এমন হাসি দিল যে, তার উত্তরটা হতে পারে এরকম- দাও! দিলে আর কী! আমি অস্বীকার করমু!
আমি বললাম, হাসিতে তো কিছুই পরিষ্কার হলো না। হ্যাঁ বা না বলো। কিন্তু ব্যাটা আর কিছু বলে না। বলে, তোমার ইচ্ছা।
আমার অবশ্য ইচ্ছা হচ্ছিল তাঁর পরিচয়টা দিই ফাঁস করে। কিন্তু যে নিজেকে লুকাতে চায়, আমরা কেন তাঁকে বাইরে প্রকাশ করতে যাই!