somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতার বিচার ভয়াবহই হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!

২৫ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামান্য কজন লোক সবার চোখের সামনে শেয়ারবাজার থেকে লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর সর্বস্ব ছিনিয়ে নিল, সরকার তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল। ৩০ লাখ বিনিয়োগকারীর অনেকে হয়েছে পথের ভিখারী, মানসিক বৈকল্যের শিকার হওয়া অনেকে হয়তো সারাজীবনেও আর সুস্থ হবেন না, কান পাতলে অনেক ঘরে এখনো কান্নার শব্দ শোনা যায়। সরকার বাধ্য হয়ে একটি তদন্ত কমিটি করল। ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে সেই তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদনও দিল। এরপরই শুরু হল সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি। অর্থমন্ত্রী প্রথমে বললেন তদন্ত প্রতিবেদন থেকে কিছু নাম 'ডিলিট' করতে হবে। পরে সেখান থেকে সরে এসে বললেন, কিছু বিষয় পুনঃতদন্ত করতে হবে। এরপর চাপ বাড়তে থাকলে দোহাই দিলেন মুদ্রণকাজে দেরি হওয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তারও পরে আবার নতুন অজুহাত দেখালেন, এসইসি আর বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত লাগবে। আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ যে এসইসির বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর সব অভিযোগ আছে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে, সেই এসইসির টাউট কর্মকর্তাদেরও মতামত দরকার আমাদের অর্থমন্ত্রীর!

ডাকাত বাঁচাতে সরকারের অবিশ্বাস্য লুকোচুরি
তদন্ত প্রতিবেদনে শেয়ার ডাকাত হিসেবে যদি শুধু বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু কিংবা লুৎফর রহমান বাদলের নাম আসতো, তাহলে আমি নিশ্চিত শেয়ারবাজার তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দ্রুততার সঙ্গে প্রকাশ করা হতো, ঢাকঢোল পিটিয়েই। কিন্তু সেখানে সবার আগে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম - সালমান এফ রহমান, যিনি একইসঙ্গে শেখ হাসিনা এবং তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই বিশেষ কয়েকজন লোককে বাঁচাতে সরকার এখন ৩০ লাখ বিনিয়োগকারী তো বটেই, বলা ভালো জনগণের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। ওই লোকগুলো কি দেশের চেয়ে বড়ো, দেশের মানুষের চেয়েও বড়ো? একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান বিডিথাই অ্যালুমিনিয়াম তদন্ত কমিটির প্রধানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করতে পারে? একজন শেয়ার-ডাকাত রকিবুর রহমান কী ভয়ানক স্পর্ধায় হুমকি দিয়ে যেতে পারেন 'এবার খেলা আমিই জমাব!' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত ছিল প্রথমেই তার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। এই লোক '৯৬ সালের কুখ্যাত শেয়ারবাজার ধ্বসেরও অন্যতম হোতা। কিন্তু কোথায় কী! গতকাল সালমান উল্টো হুঙ্কার ছাড়লেন, তার সম্পদের তথ্য কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না। করা হলে তিনি মামলা করবেন। সরকার শুধু সালমান এফ রহমানকেই নয়, দুর্নীতিগ্রস্থ এসইসিকেও বাঁচাতে চাইছে একইসঙ্গে। আবার সুযোগ থাকলেও ফালু-বাদল-রকিবুর-নূর আলীদেরও আটকানো যাচ্ছে না, কারণ ওরা সালমানেরই একান্ত সহযোগী। আর এদিকে ইব্রাহিম খালেদকে প্রতারক চক্রটি নানা দিক থেকে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছে। আমার ধারণা, এর পেছনেও সরকারের পরোক্ষ মদদ আছে।

জুজুর ভয় দেখিয়ে কতো আর!
অর্থমন্ত্রীকে আমি দোষ দেই না। এই দেশে পদত্যাগ করাকে ভালো চোখে দেখা হয় না পশ্চিমের মতো। অতীতে যতো খারাপ কাজই করুন না কেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল যখন দলে গণতন্ত্রায়নের কথা সাহস করে বললেন, তখন তাকে অভিনন্দন তো দূরের, খোদ বিএনপিও আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে তাকে ধুইয়ে দিল। অথচ মার্কিন মুল্লুকে আমরা দেখি, কী অবলীলায় ডেমোক্র্যাট দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে দ্বিধায় ভোগেন না সিনেটররাই। সেজন্য কেউ তাদের দুয়ো দেয় না। আমাদের দেশে এই সংস্কৃতি নেই। কাজেই পদত্যাগ না করায় দোষ দেখি না অর্থমন্ত্রীর। তিনি চলেন ওপরের নির্দেশে। এই ওপরমহল থেকে এখন এমনও বলা হচ্ছে যে, শেয়ারবাজারের তদন্ত রিপোর্ট নাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্থ করবে। আওয়ামী লীগ এই এক জুজুর ভয় দেখিয়ে আসছে ক্ষমতায় আরোহণের শুরু থেকেই। কিন্তু কতো আর! সবকিছুতেই যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ হয়, তাহলে মানুষের হাঁটাচলা, যানচলাচল - সবকিছুই বন্ধ করে দিন!

জনতার বিচার সামনে
যদিও বলা হয়ে থাকে, জনগণই যদিও সকল ক্ষমতার উৎস, তবে বাংলাদেশে দু পেয়ে মানুষের চেয়ে তুচ্ছ আর কিছু নেই। তবু জানেন আশা করি, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনতার বিচার একটু ভয়াবহই হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর খুব বেশি হলে দু বছর!

সংযুক্তি
শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন
৩৪টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ায় আজ মন ভালো নাই নরেন্দ মোদী জীর।

লিখেছেন নতুন, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ২:৩৪



আজ শেখ হাসিনা এবং আপসোসলীগের সবার মন খারাপ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছেন।

আজকের এই বৈঠক বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক অর্জন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ: ব্যাংককে মোদি-ইউনূস বৈঠক

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ বিকাল ৪:৪০

[


ছুটির দিনে সুন্দর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে, যা আমাদের এই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের বিরোধিতাকারীদের মুখে ঝামা ঘঁষে দেবে এবং জঙ্গীদের ঘুম হারাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিবাদ: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিকৃত চিত্রণ ও দালালি মানসিকতার জবাব

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:০৫

প্রতিবাদ: ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিকৃত চিত্রণ ও দালালি মানসিকতার জবাব

ছবি প্রথম আলোর সৌজন্যে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে আজ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসের দ্বিপাক্ষিক একটি বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জুলভার্নের কাউন্টার পোস্ট

লিখেছেন মেঠোপথ২৩, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৮

১। কমিশন বলছে, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ এইসব রাষ্ট্র বা সংবিধানের মূলনীতিতে থাকবে না।
বিএনপি বলছে, থাকবে সব আগের মতোই।

২। কমিশন বলছে, প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সংসদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর পর যা হবে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:৪২



বেহেশত বেশ বোরিং হওয়ার কথা।
হাজার হাজার বছর পার করা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। দিনের পর দিন একই রুটিন। এরচেয়ে দোজক অন্য রকম। চ্যালেঞ্জ আছে। টেনশন আছে। ভয় আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×