যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সরকারের বাজেট ১০ কোটি টাকা। নিজের বাপ-ভাই-মা-বোনের নামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনার সাইনবোর্ড বদল বাবদ বিস্তর অর্থ খরচ করে সরকার শেষমেশ এই টাকা জোগাড় করতে পেরেছে! অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় জামায়াতের বাজেট ১০০ কোটি টাকা। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ বিচার নিয়ে মাথাব্যাথা একান্তই জামায়াতের, যেহেতু দলটির গায়ে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের কড়া গন্ধ জড়িয়ে আছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ইস্যুতে বিএনপি কেন জামায়াতের ধ্বজা ধরছে? যুদ্ধাপরাধের মতো একটি স্পর্শকাতর ইস্যুর সঙ্গে বিএনপি কেন গায়ে পড়ে জড়িয়ে যাচ্ছে? খন্দকার মোশাররফ কিংবা খন্দকার দেলোয়ার কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বারবার বাগড়া দিচ্ছেন? বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বললেন, 'যুদ্ধাপরাধীর বিচারের নামে সরকার আজ যে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে, তা কোনোভাবে দেশের মানুষ মেনে নেবে না।' তারও আগে বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন প্রচুর বাজে কথা বলেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সরাসরি বিএনপি শিবির থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে নানা ধরনের অশালীন উক্তি তো করেই যাচ্ছেন। বিএনপি কেন এই যুদ্ধাপরাধীকে দলের ছায়া ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে?
দলটির শীর্ষ নেতারা কি জানেন না, এই বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের আবেগ, যাদের এক-পঞ্চমাংশ লোকও হয়তো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে না, দু চোখে দেখতে পারে না কালো কোটধারীদের? আমরা যারা আওয়ামী লীগের একনায়কসুলভ আচরণের বিরোধী, দ্বিতীয় প্রধান দল হিসেবে আমাদের অনেকেরই সহানুভূতি বিএনপির দিকে যাওয়ার কথা। কিন্তু লক্ষ্য করে দেখেছি, শেষ পর্যন্ত সেটা যায় না। যুদ্ধাপরাধীদের আঁচলের নিচে আশ্রয় দিয়ে, দুধ-কলা দিয়ে তাদের পুষে বিএনপি কিভাবে আশা করতে পারে যে, এই প্রজন্মের সমর্থন তারা পাবে?
বিএনপি বোধহয় বড়ো একটা ভুল করতে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত পশুদের বিচার চাই। এই একটা জায়গায় কোনো আপোষ নেই, কোনো ক্ষমা নাই - নো মার্সি!
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:১২