somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ডাকটিকিট

০৪ ঠা আগস্ট, ২০১০ রাত ১১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




আজ থেকে ঠিক ৩৯ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশে প্রথম
পূর্ণাঙ্গ ডাকটিকিটের সেট প্রকাশিত হয়।
কোনো দেশের অভ্যন্তরে বা নিজ দেশ থেকে অন্য দেশে চিঠি পাঠানোর জন্য ডাক মাশুল হিসেবে চিঠির খামের ওপর নির্দিষ্ট মূল্যের যে টিকিট ব্যবহার করা হয় তাকেই ডাকটিকিট বলা হয়। একটি দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ডাকটিকিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাকটিকিট একটি দেশের পরিচয় বহন করে। ডাকটিকিটে যেহেতু ডাকটিকিট প্রকাশকারী দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয় তাই ডাকটিকিটের মাধ্যমে সে দেশ সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা লাভ করা যায়।

বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের সেটটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা এবং তার কিছুদিন পর ১০ এপ্রিল একটি স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকার গঠন করার পর স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশকে একটি স্বতন্ত্র দেশ হিসেবে প্রচারের জন্য নিজ দেশের নামে ডাকটিকিট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অবশেষে বহুল প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশের ডাকটিকিটের প্রথম সেটটি প্রকাশ করা হয়। সে সময় প্রবল যুদ্ধ চলছিল বলে বাংলাদেশ থেকে ডাকটিকিটগুলো অবমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে মুজিবনগর সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতা ও লন্ডনের বাংলাদেশ মিশন থেকে বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট হিসেবে ৮টি ডাকটিকিটের একটি সেট অবমুক্ত করা হয়। স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে ডাকটিকিট প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত পাকিস্তানি ডাকটিকিটের ওপর 'বাংলাদেশ' কথাটি হাতে লিখে বা রাবার সিল মেরে সেই ডাকটিকিটগুলো ব্যবহার করা হত।

বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের ডিজাইনার ছিলেন বিমান মলি্লক। তিনি ব্রিটিশ পোস্টমাস্টার জেনারেল জন স্টোনহাউসের সহায়তায় ৮টি ডাকটিকিটের ডিজাইন তৈরি করেন। এ ডাকটিকিটগুলো প্রকাশে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২৯ জুলাই ডাকটিকিটগুলো প্রকাশের পর তা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয় এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে সমর্থনের জন্য আহ্বান জানানো হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাংলাদেশ ডাকবিভাগ পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করে। বিজয়ের পর প্রথম ১৯৭২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে 'শহীদ মিনার'-এর ছবি সংবলিত ২০ঢ়. মূল্যমানের প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বৈচিত্র্যময় অসংখ্য ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে যা পৃথিবীব্যাপী ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের কাছে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সাধারণত ২ ধরনের ডাকটিকিট প্রকাশ করে থাকে। যথা : ডেফিনিটিভ বা সাধারণ ডাকটিকিট (এই ডাকটিকিটগুলো খুবই সাধারণ মানের, আকারে ছোট এবং বারবার ছাপানো যায়) এবং কমেমুরেটিভ বা স্মারক ডাকটিকিট (এই ডাকটিকিটগুলো কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক ঘটনা, দেশের বৈচিত্র্যময় বিষয়সমূহ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্মরণে প্রকাশিত হয় এবং দেখতে আকর্ষণীয়)। এছাড়া সংগ্রাহকদের আকর্ষণ করার জন্য বড় আকারে স্যুভেনির শিটও প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম ডেফিনিটিভ ডাকটিকিটের সেটটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালের ৩০ এপ্রিল। এই সেটে বিভিন্ন মূল্যমানের ১৩টি ডাকটিকিট ছিল। এছাড়াও ১৯৭৪ সালের ৯ অক্টোবর Universal Postal Union-এর শতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রথম স্যুভেনির শিটটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ত্রিকোণাকৃতির ডাকটিকিটটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালের ১২ মে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ডাকটিকিট প্রদর্শনী 'বাংলাপেঙ্ '৮৪ উপলক্ষে। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সব ডাকটিকিট বিদেশ থেকে ছাপিয়ে আনা হত। পরবর্তীতে গাজীপুরে স্থাপিত দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ১৯৮৯-এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রকাশিত ডাকটিকিটসমূহ ছাপানো হচ্ছে। ২০০৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রথমবারের মতো চ্যারিটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বাংলাদেশের সবচাইতে দুষ্পাপ্য এবং মূল্যবান ডাকটিকিটটি হলো ১৯৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতার ২০০ বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত ছিদ্রবিহীন স্যুভেনির শিটটি। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ডাক বিভাগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশীয় ফুল, ফল, পশুপাখি নিয়ে আকর্ষণীয় ডাকটিকিট প্রকাশ করে যাচ্ছে। ২০১০ সালে ইতোমধ্যে ডাক বিভাগ ২১টি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে ১৯৭১ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বাংলাদেশ ডাকবিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ডাকটিকিটের সংখ্যা প্রায় ১০০০। প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বিষয় ও আকৃতির ডাকটিকিট প্রকাশ এবং তার প্রচারণার মাধ্যমে দেশের সব বয়সের মানুষের মধ্যে ডাকটিকিট সংগ্রহের মতো আকর্ষণীয় শখটিকে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব।

***********************
বাংলাদেশের ডাকটিকিটের বিভিন্ন দিক নিয়ে লিখেছেন_মো. আবু আল হাসান
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রসঙ্গঃ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় বাংলাদেশ চ্যাপ্টার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৫ রাত ১০:৫৮

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিউইয়র্ক টাইমস এর নিউজটা যথাসময়েই পড়েছিলাম। নিজের মতো করে রিপোর্টের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট লিখতেও শুরু করে ছিলাম। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য বিষয়টা শেষ করতে পারিনি।

এবার দেখা যাক বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশী রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত ট্যারিফ নিয়ে যত ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৮:৪১


আমাদের রাষ্ট্রপতি মহোদয় জনাব ট্রাম্প আজ বিকেলেই সম্ভবত ৫০ টিরও বেশী দেশের আমদানীকৃত পণ্যের উপর নতুন শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনিও একটি তালিকাও প্রদর্শন করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুদ্ধতার আলোতে ইতিহাস: নবী মুহাম্মদ (ﷺ) ও উম্মে হানীর (رضي الله عنها) বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ৯:৩০


প্রতিকী ছবি

সম্প্রতি ইউটিউবার ইমরান বশির তাঁর এক ভিডিওতে নবী মুহাম্মদ (ﷺ) ও উম্মে হানী (رضي الله عنها)-এর সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই দেশ থেকে রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা যায় কিভাবে?

লিখেছেন গেঁয়ো ভূত, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ সকাল ১০:১৪

রাজনৈতিক অন্ধকার দূর করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়, যা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। এই সমস্যা সমাধানে দেশের নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাব্যবস্থা, এবং প্রশাসনের যৌথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ : নানা মুনীর নানা মত !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৫ দুপুর ১:২২


ডোনাল্ড ট্রাম্পের রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের ঘটনায় দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষিত বিবেকবান শ্রেনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আমরা যারা আম-জনতা তারা এখনো বুঝতে পারছি না ডোনাল্ড ট্রাম্প কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×