
দুনিয়ার জীবনের সাথে নীচের ঘটনাটির বড় মিল রয়েছেঃ
এক ব্যক্তি অভ্যাস ছিল প্রত্যেক রাত্রে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানায় পেশাব করে দিত। তার স্ত্রী বেচারীকে প্রতিদিন সেগুলো ধুতে হতো। একদিন তার স্ত্রী বললো, “আমি প্রতিদিন পেশাব ধুতে ধুতে হয়রান হয়ে পড়েছি। আর পারি না। আপনার ঘাড়ে কি কোন ভুত চাপে নাকি রাত্রে?
লোকটি বললো, “রাত্রের বেলায় ঘুমের মধ্যে একটা শয়তান আসে। এসে বলে, ‘চল তোমাকে বেড়িয়ে নিয়ে আসি।’ আমি যখন বেড়াতে যেতে উগ্যেত হই তখন শয়তান বলে, ‘পেশাব করে নাও! আগে পেশাবের কাছ সেরে পরে চল।’ তখন আমি পেশাবখানাতে পেশাব করছি ভেবে পেশাব করি। পরে দেখি সেটা শোয়ার বিছানা।”
স্ত্রী বললো, “শয়তানতো জীনের বাদশা। আমরা গরীব মানুষ। তুমি শয়তানকে বল আমাদেরকে কিছু টাকা এনে দিতে। আমাদের এই দুঃখের জীবন শীঘ্রই কেটে উঠবে।”
স্বামী শয়তানকে বলতে রাজী হলো।
রাত্রে যখন ঘুমালো তখন আবার শয়তান আসলো।
শয়তান বললো, “চল বেড়িয়ে আসি।”
লোকটি বললো, “রোজ রোজ খালি হাতে বেড়াতে পারবো না। কোথাও থেকে কিছু টাকা এনে দাও। তবে যাই।”
শয়তান বললো, “ এটা আবার এমন কি কঠিন কাজ। টাকা নিতে হলে আমার সঙ্গে চল, যত ইচ্ছা নিয়ে যাও।”
এই বলে সে লোকটিকে এক বাদশার ধনভান্ডারের সামনে নিয়ে দাঁড় করিয়ে দিল। দেখে শুনে টাকার একটা বিরাট বোচকা ওর মাথায় চাপিয়ে দিল। বোচকা এত ভারী ছিল যে তার চাপে লোকটার পায়খানা বাহির হয়ে আসলো।
যখন সকাল হলো, দেখে পায়খানার স্তুপ।
স্ত্রী বললো, “এটা কেমন করে হলো?”
বললো, “রাত্রে শয়তান আমার মাথায় টাকার তোড়া এত বেশী চাপিয়ে ছিল যে ভোঝার ভারী সহ্য করতে না পেরে ক্রটিপূর্ন পায়খানা হয়ে গেছে।”
স্ত্রী বললো, “ আগে পেশাব করতেন জনাব সেই ভাল ছিল। আল্লাহর ওয়াস্তে আর পায়খানা করবেন না।” আমাদের টাকা পয়সার দরকার নেই।”
ঘটনাটি অশ্নীল বটে; কিন্ত যদি চিন্তা করা যায় তবে আমাদের জীবনের সাথে লোকটির স্বপ্নের বড় মিল রয়েছে। জীবনটা যেন ঘুমন্ত অবস্থা। মৃত্যু এসে চোখ খোলে দিবে। আমরা তখন বাস্তব জীবনে ফিরে যাব। নাপাক গুনাহ তখন আমাদের সারা অঙ্গে মাখানো থাকবে।
সুত্রঃ মুসলমানে হাসি, পৃষ্টা ১২২
=============================
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদের অবস্থাও এই লোকটির মত। অর্থলোভী বউ আর দুর্ণিতিবাজ সহকর্মীদের প্ররোচনায় ক্ষমতায় বসেই কিভাবে কোটি কোটি আত্মসাৎ করা যায় সেই স্বপ্ন দেখতে থাকে। জনগন ও রাষ্টর টাকা নিজেদের পকেটে ভরতে থাকে। এই ঘৃন্য কাজে কেউ বা সফল হয় কেউ বা ধরা পড়ে। ধরা খেয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়। আমৃত্যু পরিবার ও জনগনের কাছে ঘৃনার পাত্র হয়। তাই আমাদের কে মনে রাখতে হবে--লোভে পাপ পাপে মৃত্যু