
ব্যারিষ্টার রফিকুল হকঃ কলকাতায় ভাগ্যের শিকে ছিঁড়তে না পেরে’৬৫ তে ঢাকায় আসেন। তার এ দেশে আগমনের উদ্দেশ্যই ভাগ্যান্বেষন। উদ্দেশ্য শতভাগ সফল। সকল দুর্নিতীবাজের আইনজীবী। দেশের দুর্নিতীবাজদের শেষ আশ্রয়স্থল দুটো-হাইকোর্ট আর ব্যারিষ্টার রফিক। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তিনি শুধু কোন নাগরিকের প্রতি যেন মানবাধিকার লংঘন না হয় সেদিকটা দেখেন। সমাজ তথা দেশের রক্ত চোষনকারীদের পক্ষ নিয়ে মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো কতটুকু যৌক্তিক?

কাদের সিদ্দিকীঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা। বংগবন্ধু নিহত হবার পর তিনিই প্রথম প্রতিবাদকারী। বংগবীর- যার নাম শুনলে এখনো আমার মত হাজার তরুনের রক্তে শিহরন জাগে। সেই বংগবীর কাদের সিদ্দিকী এখন যুদ্ধাপরাধীদের মানবাধিকার লংঘনে উদ্বিগ্ন।হয়ত বা কিছুদিনের মধ্যেই ঘোষনা দিবেন নিজামি গং তার সহযোদ্ধা ছিল।

ডঃ কামাল ঃরাজনৈতিক দল গনফোরামে যুক্ত। দেশের সংবিধান রচয়িতা। দেশের মানুষের স্বার্থে সোচ্চার, আবার বিদেশি লুটেরা গ্যাস কোম্পানী নাইকোর আইনজীবী- বড়ই বেমানান।

আবুল মকসুদঃ তার কলামে প্রায়ই দেখা যায় তিনি শুরু করেন এভাবে, বংগবন্ধু বা ভাসানী বা অন্য কোন মহান নেতা তাকে একদিন ডেকে বলেন ,“ওহে মকসুদ .........।।“ পল্লীকবি জসিমউদ্দিন বেচে থাকলে এ নিয়েও “বাংগালীর হাসির গল্প” লিখে ফেলতেন। যাই হোক তার এসব আজগুবি গল্পে কারো কোন ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু গত কয়েকটি কলামে তার যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে লেখা আর সেই কলামগুলো ছাগুদের সাইটে লিংক হিসেবে ব্যবহার হওয়া দেখে মনে হয়, ডালমে কুচ কালা হ্যায়।

আনিসুল হকঃ এই জোকারকে নিয়ে লেখার শেষ নেই। মুসাকে নিয়ে সে কি কান্ডটাই না করল। তার লেখায় যতটা না সমাজচিন্তা তার চেয়ে বেশী ব্যবসায়িক ধান্ধা। ‘৯৬এর আওয়ামী লীগ সরকারের শেষদিকে তার প্রতিটি কলামে আওয়ামীলীগকে তুলোধুনো করেছিলেন। এবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই বংগবন্ধুকে নিয়ে প্রথম আলুর ঈদসংখ্যায় উপন্যাস লিখে ফেলেন।

বদরউদ্দিন আহমদ কামরানঃ আওয়ামী সমর্থিত মেয়র। কিন্তু তার ব্যবসায়িক পার্টনারশিপ, চলাফেরা, সামাজিকতা সবকিছুইজামাত নেতাদের সাথে। যার কারনে আমরা দেখতে পাই দেশের কোথাও যুদ্ধাপরাঘীদের পক্ষে জামাত মিছিল করতে নাপারলেও সিলেটেতারা মাঠ গরম করে ফেলেছে। জংগী মিছিল, ভাংচুর সবই হচ্ছে – আর এর পেছনের নাটের গুরু হলেন আওয়ামী মেয়র কামরান।

ডঃ মাহফুজুর রাহমানঃ ডাঃ বদরুদ্দৌজা চৌধুরীকে নিয়ে ২০০১ সালের শেষদিকে তৈরি করেন আওয়ামী বিদ্বেষী “সাবাস বাংলাদেশ”। বিএনপির সময় এর পুরস্কার ষোল আনায় উসুল করে নেয়।এ সরকারের আমলেও সে ইতিমধ্যে ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলের লাইসেন্স হাতিয়ে নেয়। কারনটা সহজেই অনুমেয়, জায়গা মত তেল ঢালতে পেরেছেন।

চ্যাণেল আই ঃ শ্লোগান হৃদয়ে বাংলাদেশ । সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে দেশে নতুন ধরনের ব্যবসার উদ্ভাবক। হৃদয়ে কতটুকু যে বাংলাদেশ আছে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ।

সাহারা খাতূনঃ লীগ বিরোধী দলে থাকলে আন্দোলন সংগ্রামে যে কয়জন নেতা পুলিশের পিটুনি খান তাদের মধ্যে সাহারা-মতিয়া প্রথম। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে ছাত্রদের, তেল গ্যস রক্ষা কমিটির নেতা আনু মুহাম্মদকে, গত কয়েক দিনে বিদ্যুতের দাবীতে আন্দোলনরত নিরীহ মানুষকে পুলিশ যেভাবে পিটাচ্ছে, মনে হয় সাহারা বেগম আজীবনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।
প্রথম পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১০ রাত ১২:১৮