somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছোট গল্পঃ মিথ্যে প্রেম

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লতা অন্যসব দিনের মতই প্রাইভেট পড়ে বাসায় আসল। এসে ফ্রেশ হয়ে বসতে না বসতেই একটা ফোন আসল। নাম্বারটা দেখল অপরিচিত। সালাম দিয়ে কথা বলল। কণ্ঠ টা পরিচিত নয়। জিজ্ঞেস করল কাকে চান ? উত্তর আসল আপনি কি লতা? জী বলছি। আপনি কে? উত্তর আসল আমি আপনার ছবি দেখেছি। ছবি দেখেছেন, কোথায়? অবাক হয় লতা। তার পরিচয় জানতে চায় লতা। ফোনের ওপাশ থেকে বলে আমি আপনার কাছে কিছুই লুকাবো না । শুধু বলল আমার এক ছোট ভাই আপানার সাথে পড়ে। লতাতো চিন্তায় অস্থির এমন কেউ কি তার ক্লাস মেট আছে যার কাছে তার ছবি আছে। কিন্তু এমন কাউ কে পেলনা লতা। হটাত লতার মনে হল হ্যাঁ একজনের কাছে ছবি আছে আর সে হল তার বেস্ট ফ্রেন্ড দের একজন মৃদুল। তাহলে কি মৃদুলের ভাই? পরদিন লতা প্রাইভেট এ গিয়ে কৌশলে মৃদুল কে বলে দোস্ত তোমার মোবাইল টা দাওনা আমার মোবাইলে টাকা নাই একটা ফোন দিব। ফোন নিয়ে চেক করে দেখে ওই নাম্বারটা ওর ভাইয়ের। উনি নোয়াখালি থাকেন। ওখানে জব করেন। কিছু দিন ধরে আসছেন এইখানে। বিয়ে করবেন তাই পাত্রি খুজছেন। এগুলো আগেই শুনেছিল লতা বন্ধুর কাছ থেকে। পরদিন লোকটা ফোন দেন । ভদ্রতার খাতিরে কথা বলে লতা। কারন মৃদুল খুব ভালো বন্ধু লতার তাই তার ভাইয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। আর লোকটাও বেশ ভদ্র। কিছুক্ষন কথা বলে লতা বলে ফেলল আপনি মৃদুলের ভাই রাইট? লোকটা বলল আমিতো আপনাকে আগেই ধারনা দিয়েছিলাম। যাইহোক, উনার নাম মুহিন। মুহিন লতাকে অনুরোধ করল মৃদুল কে যেন না বলে যে তিনি ফোন দেন। তাহলে তিনি ছোট হয়ে যাবেন।

এভাবে কয়েকদিন যাওয়ার পর লতার মনে হল কেন এই লোকটা ফোন দেয়? আজ জিজ্ঞাসা করবে? তার উদ্দেশ্য কি? মুহিন লতাকে বুঝায় তাকে ভালো লেগেছে। এখন ফ্যামিলির মাধ্যমে কিভাবে কি করা যায় তাই তিনি করবেন। বেশ স্বপ্ন দেখালেন লতাকে। অনার্স ফাইনাল দিচ্ছিল লতা। লতা কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে থাকতো। মুহিনের ফোনের অপেক্ষায় থাকত। ফোন করতে দেরি হলে অভিমান করত। মুহিনও লতার মেসেজের অপেক্ষায় থাকতো। একদিন লতা মুহিনকে কোন মেসেজ দিলনা। মুহিন লতার মেসেজ না পেয়ে বেশ অস্থির হয়ে পড়ল। বলল তোমার কাছে আমার কোন গুরত্ত নেই। লতা আসলে ইচ্ছে করেই এমন করেছিল কারন সে দেখতে চেয়েছিল মুহিন আদৌ তাকে মিস করে কিনা? লতা একদম পড়তে পারছিলনা। এমন একটা ব্যাপার যে সারাক্ষন মুহিন কে ভাবে। এদিকে পরিক্ষার বারোটা বেজে গেল। কারন লতার পড়া শেষ হচ্ছিল না। সারাদিন পড়ে কিন্তু কিছুই মাথায় ঢুকেনা।

পরিক্ষা শেষ হল লতার। এখনও মুহিন কে দেখেনি লতা। খুব এক্সসাইটেড। ঠিক হল ঈদের দিনই দেখা করবে ওরা। দেখা হল কথা হল। এই প্রথম ভালো লাগল কাউকে লতার। মুহিন দেখতে বেশ সুন্দর লম্বা। বলল মুহিন এই প্রথম কোন মেয়ের সাথে তার ভাললাগা এবং বিয়ের জন্য দেখা। বলল এই কথাটা মিথ্যে নয়।

এদিকে মৃদুল বার বার ফোন করছিল লতাকে। লতার একটা কথা মনে হচ্ছে যে মৃদুল কে জানানো দরকার। কারন পরে জানতে পারলে মৃদুল খুব রাগ করবে এবং ভুল বুজবে। লতা বুজতে পারছিল না কি করবে? কারন মৃদুল ওর অনেক ভালো বন্ধু। ঈদের দিন লতার সব বন্ধুরা মিলে বেড়াতে যাবে এমন কথা ছিল। যেহেতু লতা যেতে পারেনি তাই মৃদুল অনেক সন্দেহ করল ওকে। লতার সাথে মৃদুল এর সম্পর্কটা বেশ মজার। খুব ঝগড়া করে ওরা কিন্তু একজন আর একজন কে অনেক বিশ্বাস করে এবং ভালো জানে।

মৃদুল লতাকে ঈদের দিন বিকেলে ফোন দিয়ে অনেক জেরা করল। কোথায় ছিলে কার সাথে দেখা করছ? মৃদুল জানে লতা মিথ্যা বলেনা। লতা বলল আমি তোমাকে এ ব্যাপারে পরে বলব এখন বলতে পারবনা। কিন্তু মৃদুল ছাড়ার পাত্র নয় বন্ধুত্বের কসম দিল। বাধ্য হল সব বলতে মৃদুল কে।
সব শুনে মৃদুল বলল
- তুমি আমার ভাইয়ের নাম্বার কোথায় পাইছ? তা শুনে লতার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরল ।
- মানে? আমি কেন তোমার ভাইয়ের নাম্বার নিতে যাব?
- তো তোমার নাম্বার পাইছে কই?
- বোকার মত কথা বলবা না , তোমার ভাই তোমার কাছ থেকেই নাম্বার পেয়েছে। মৃদুল তুমি
ভুল বুজতেছ। তোমার কাছ থেকেই ছবি দেখছে।
- তুমি কেন আমাকে বলনাই যে তোমাকে ভাইয়া ফোন দেয়?
- আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার ভাইয়া না করছে।
- লতা তুমি আমার সহপাঠি না হলে আমার কোন সমস্যা ছিল না। এটা আমি কোন দিনও মেনে নিব না।
এর পর লতার সাথে কথা হয় মুহিনের । লতা জিজ্ঞেস করে আপনি কি বাসায় কথা বলেছেন? মুহিন বলে তুমি চিন্তা করনা আমি বড় আপার সাথে কথা বলে সব ঠিক করছি। আপা-ই আব্বা আম্মার সাথে কথা বলবে।

এর পর থেকে ফোন দিলে আর ধরেনি মুহিন। খুব ভেঙ্গে পড়ে লতা। কেন এমন হল? বন্ধুর কাছে এভাবে ছোট হয়ে গেল। ভাবতেই লজ্জা লাগছে। যেই মানুষটা এতো স্বপ্ন দেখাল এখন তাকে খুব অপরিচিত লাগছে।

মৃদুল একদিন লতাকে বলেছিল –দোস্ত আমার জন্য দুয়া কইরো যেন আমি তোমার মনের মত সুন্দর মনের একজন মানুষ পাই। লতা বলেছিল পাম দেও? মৃদুল বলল না। তোমার মনটা খুব ভালো আমার বড় আপার মত তুমি। মানুষের সাথে মিশতে পার আর খাপখাওয়াতে পার।


আজ শুধু লতা ভাবে এতো ভালো হয়ে কি লাভ? এতো ভালর কি মূল্য রইল? কেন সেই মানুষটা আমার মন নিয়ে খেলল? কেন কেন? সপ্নগুলো আজ সব এলো মেলো । মিথ্যে ভালবাসা ছিল। মিথ্যে ছিল সব স্বপ্ন।








সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:০১
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বায়াতের মাধ্যমে খলিফা না হয়ে গণতন্ত্রের হারাম পদ্ধতিতে চরমোনাই পীর কোন শরিয়া আইন চালু করার কথা বলছেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১১৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১৬। যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশ লোকের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করবে। তারা তো শুধু অনুমানের অনুসরন করে:... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মানুষ ও পাখি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৬

সব পাখি জোড়ায় জোড়ায় ওড়াউড়ি করে না,
আধার সন্ধানে জোড় বেঁধে ঘোরাঘুরি করে না।
সব পাখির সাথী থাকে না,
সব পাখির কণ্ঠে গান থাকে না।
বিরহী কোন পাখি অন্য পাখির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রলয়ঙ্করী সুনামি: উগ্র ইসলামপন্থি শক্তির প্রতারণা ও প্রপাগান্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩১


বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত এক-দেড় বছরে একটি প্রলয়ংকরী সুনামি বয়ে গেছে। সেটা হলো, উগ্র ডানপন্থী ইসলামপন্থি শক্তির ক্ষমতার কেন্দ্রে প্রবেশ এবং রাজনীতির মূলধারায় স্বাভাবিকীকরণ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। ইসলামপন্থি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনতার “হ্যাঁ”, দালালের “না”

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:১২

যতই বলুন “হ্যাঁ”,
চাঁদাবাজরা শুনবে না;
তাদের প্রিয় “না”—
অভ্যাস তো বদলাবে না।

যতই বোঝান “হ্যাঁ”,
বুঝতে তারা চাইবে না;
অনিয়ম আর দুর্নীতি
ছাড়তে তো রাজি না।

বলছে সবাই “হ্যাঁ”,
তবু তাদের “না”;
লুট-সন্ত্রাস না থাকলে তো
তাদের জীবন চলেনা ।

গণভোটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোদির ম্যাজিক...ক্যামনে পারে ?

লিখেছেন অপলক , ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩১



বাংলাদেশে চীনের তিস্তা প্রজেক্ট অনিদ্ষ্টি সময়ের জন্য স্থগিত। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার চাইলে হতেও পারে। অন্যদিকে নীলফামারীতে অত্যাধুনিক হাসপাতাল স্থাপনা যতটা বড়পরিসরে হবার কথা ছিল, সেটা হচ্ছে না। মোদী দাদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×