ছাত্রলীগের হত্যার রাজনীতির শিকার আবিদ
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
ছাত্রলীগের হত্যার রাজনীতির শিকার হলেন চমেক ছাত্র আবিদুর রহমান আবিদ। কলোষিত রাজনীতির শিকার হয়ে অকালে হারিয়ে গেল বড়ই তলী গ্রামের স্বপ্ন আবিদ। তার মায়ের আকুতিতে কি সরকারের টনক নড়বে?
ছাত্রলীগ ক্যাডারদের নির্মম নির্যাতনে গুরুতর আহত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বিডিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আবিদুর রহমান মারা গেছেন। প্রায় দু’দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে মারা যান তিনি। আবিদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধারের পর চমেকের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকালে। এখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিসত্করা ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিত্সা দেয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সেই সুযোগ আর হলো না। ঢাকায় নেয়ার সব প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন আবিদ।
আবিদসহ নির্যাতনে আরও আহত হন চমেকের ৭ ছাত্র। আহত অন্যরা হলো—ইয়াছিন, রিজভী, মিনহাজ, ফয়সাল, ওবায়েদ ও তৌফিক। তারা চমেকের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়ে হঠাত্ ছাত্রদলে যোগ দিয়ে ডেন্টালে ছাত্রদল সংগঠিত করার অপরাধে আবিদের ওপর এ বর্বর নির্যাতন চালানো হয় বলে তার পরিবারের সদস্য ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন।
আমার দেশে প্রকাশিত নিউজ থেকে জানা যায়, বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চমেক ছাত্র সংসদ অফিসে আটকে রেখে এ ৭ শিক্ষার্থীর ওপর দফায় দফায় নির্যাতন চালানো হয়। আবিদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত হকিস্টিক দিয়ে পুরো শরীর পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি-লাথি মেরে জখম করা হয়। আঘাতে থেঁতলে যায় শরীরের বিভিন্ন অংশ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ
কেয়ার ইউনিটটে (আইসিইউ) চিকিত্সা দেয়ার পর তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। চিকিত্সকদের পরামর্শ অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন মুমূর্ষু আবিদকে নিয়ে ঢাকা অ্যাপোলো হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেয়ার প্রস্তুতি নেন। হাসপাতালের সামনে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। আবিদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা আবিদের খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
চমেক ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আবিদ ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু চমেক ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কিছুদিন আগে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। এতে ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।
বুধবার বিকালে আবিদসহ অন্যরা ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা শেষে হলে যাওয়ার সময় ছাত্র সংসদের সামনে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তাদের গতি রোধ করে ছাত্র সংসদ অফিসে আটকে রাতভর চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। নির্যাতনের একপর্যায়ে এসব ছাত্র সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে নির্যাতনকারীরা চলে যায়। আশপাশের লোকজন বৃহস্পতিবার সকালে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠিয়ে দেয়।
আবিদের মামা নিয়ামত উল্লাহ জানান, আবিদকে চমেকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি কান্নাজড়িতকণ্ঠে বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এত দীর্ঘ সময় আবিদকে আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর পরও পুলিশ বা চমেক প্রশাসন তাকে উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। চমেকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডাক্তাররা সন্ত্রাসীদের ভয়ে আবিদকে যথাযথ চিকিত্সা দিতেও রাজি হননি প্রথমে। অনেক পীড়াপীড়ির পর তাকে আইসিইউতে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে এখানে রাখতে রাজি হননি। মুমূর্ষু অবস্থায় আবিদকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলা হয় আমাদের। কিন্তু তার অবস্থা তখন শেষ পর্যায়ে। চমেকে সময়মতো চিকিত্সা দেয়া হলে আবিদকে হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো। এভাবে আর কত প্রান গেলে ছাত্রলীগের হত্যার রাজনীতি বন্ধ হবে এ প্রশ্ন রইল ছাত্রলীগ নেতাদের প্রতি। আর কত মায়ের বুক খালি হলে জাতির মেরুদন্ড শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসকারী এ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে এ প্রশ্ন রইল সরকারের প্রতি। সূত্র-আমার দেশ
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
"টোকাই থেকে হিরো"

টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন
মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন
Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।
অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।